ব্রিটিশ শাসনকালে প্রবর্তিত বিভিন্ন চার্টার অ্যাক্ট বা সনদ আইন

Advertisements

রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩ (1773)

  • ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থের উদ্যোগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই আইন পাশ হয়
  • দ্বৈতশাসনের অবসান ঘটে
  • কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্যের দায়িত্ব একজন গভর্নর জেনারেল ও চার সদস্যের কাউন্সিলের হাতে দেওয়া হয়
  • বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়
  • বােম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি গভর্নর জেনারেল ও তার কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে আসে
  • কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করা হয় (১৭৭৪)
  •  

পিটের ভারত আইন, ১৭৮৪ (1784)

  •  রেগুলেটিং অ্যাক্টের দুর্বলতা দূর করার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
  • উইলিয়াম পিট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই আইন পাশ করান
  • গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা চার থেকে কমিয়ে তিন করা হয়
  • গভর্নর জেনারেলকে প্রয়ােজনে সদস্যদের মতামত অগ্রাহ্য করার অধিকার দেওয়া হয়
  • বােম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির উপর তার পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়
  • ৬ জন কমিশনার নিয়ে বাের্ড অফ কন্ট্রোল গঠিত হয়। প্রথম সভাপতি হেনরি ডান্ডাস

১৭৯৩ সালের সনদ আইন (1793)

  • ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসার মেয়াদ আরও ২০ বছর বাড়ানাে হয়
  • বাের্ড অফ কন্ট্রোলের গঠনে কিছু পরিবর্তন—কমিশনারদের সদস্য সংখ্যা ৬ থেকে কমিয়ে ৫ করা হয়
  • বােম্বাই ও মাদ্রাজ কাউন্সিলের উপর গভর্নর জেনারেল ও তার কাউন্সিলের কর্তৃত্ব আরও বাড়ানাে হয়।

১৮১৩ সালের সনদ আইন (1813)

  •  কোম্পানির ব্যবসার মেয়াদ আরও ২০ বছর বাড়ানাে হয় কিন্তু ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের একচেটিয়া বা একচ্ছত্র অধিকারের অবসান ঘটে
  • তবে চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ও সাধারণভাবে চা ও নীল-এর ক্ষেত্রে তার একচেটিয়া অধিকার বজায় থাকে
  •  ভারতীয় সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের উৎসাহদানের জন্য ও বিজ্ঞান সংক্রান্ত শিক্ষা প্রবর্তনের জন্য ১ লক্ষ টাকা কোম্পানিকে খরচ করতে বলা হয়
  • কলকাতায় একজন বিশপ ও তিনজ আর্কডেকানের নিয়ােগের ব্যবস্থা করা হয়
  • স্থির হয়, গভর্নর জেনারেল, গভর্নর ও প্রধান সেনাপতির নিয়ােগ ব্রিটিশ রাজ্যের অনুমােদন ব্যতীত কার্যকর হবে না
  • কোম্পানির অধীনে চাকুরি করতে গেলে হেইলিবেরি (Haileybury) কলেজে ৪ বছর পড়াশােনা করে সেখানকার প্রমাণপত্র বা Certificate দাখিল করতে হবে। সামরিক বিভাগে যােগদান করতে হলে এডিসকোম (Addiscombe) কলেজের Certificate দেখাতে হবে। বাের্ড অফ কন্ট্রোলের হাতে ছিল এই দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব
  •  খ্রিস্টান মিশনারীরা ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার লাভ করে

• চায়ের ও নীল-এর উপর একচেটিয়া ব্যবসা ও সেই সঙ্গে চিনের সঙ্গেও একচেটিয়া কারবার তুলে দেওয়া হয় অর্থাৎ এবার থেকে কোম্পানির ব্যবসা সংক্রান্ত দায়িত্ব রইল না। সে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হল।
• বাের্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি এখন থেকে ভারত বিষয়ক মন্ত্রীর মর্যাদা লাভ করলেন।
• সমস্ত শ্রেণির ইংরেজকে বসবাস করার অধিকার দেওয়া হল।
• বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হল। বােম্বাই ও মাদ্রাজ কাউন্সিলের উপর তার পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। সামরিক ও অসামরিক প্রতিটি বিষয়ে স্থানীয় গভর্নর ও তার কাউন্সিল গভর্নর জেনারেলের নির্দেশ মানতে বাধ্য ছিল।
• গভর্নর জেনারেলকে এক Law Commission নিয়ােগের ক্ষমতা দেওয়া হয়। মেকলে ছিল এর চেয়ারম্যান।
•অবাধ বাণিজ্যের (Free Trade)-র সূত্রপাত হয়।

• কোম্পানি কতদিন ক্ষমতায় থাকবে সে বিষয়ে কোনও পাকাপােক্ত কিছু ঘােষণা না হওয়ার কারণে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যে কোনও সময় কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানাের অধিকারী হয়
• কোম্পানির ডিরেক্টরের সংখ্যা ২৪ থেকে কমিয়ে ১৮ করা হয়, যার মধ্যে ৬ জন হবে সরকারের মনােনীত ব্যক্তি
•কোম্পানির সব কর্মচারী প্রতিযােগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিযুক্ত হবেন বলে স্থির হয়
•সরকারের কার্যকরী ক্ষমতা ও আইন প্রণয়ন ক্ষমতা দু’ভাগে ভাগ করা হয়। কার্যকরী সমিতি বা Executive Council-এ গভর্নর জেনারেলের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলেও আইনসভা বা Legislative Council-এর কোনও সংস্কার তিনি বাতিল বা অগ্রাহ্য করতে পারতেন না। অবশ্য তার সম্মতি ব্যতীত কোনও নির্দেশ/আইন কার্যকর হত না। আইন সমিতির সদস্য সংখ্যা হয় ১২।
• ভারতে রেলপথের শুভ সূচনা হয়।

• কোম্পানির শাসন বিলুপ্ত করে ব্রিটিশ রাজ শুরু হয়।
• বাের্ড অফ কন্ট্রোল ও কোর্ট অফ ডাইরেক্টরস বিলুপ্ত হয়।
• ভারতে শাসনের জন্য একজন ভারত সচিব নিযুক্ত হয়।তিনি ব্রিটিশ ক্যাবিনেট-এর একজন সদস্য হবেন এবং তার পদের নাম হয় Secretary of State for India  তার কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা হবে ১৫ জন।
•সেক্রেটারি অফ স্টেট কাউন্সিলের ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ৮ জন সদস্য ব্রিটিশ রাজ্যের দ্বারা মনােনীত হবেন এবং ৭ জন সদস্য বাের্ড অফ ডাইরেক্টর্স-এর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হবেন।
• ভারতের গভর্নর জেনারেলকে ‘ভাইসরয়’ পদে নামাঙ্কিত করা হয়। ভাইসরয়’ কথার অর্থ হল ‘রাজপ্রতিনিধি। ভাইসরয় তার রিপাের্ট Secretary of State for India নির্মিত টেলিগ্রাফ লাইনের মাধ্যমে ভারত সচিবের কাছে পাঠাবেন।

• বিভিন্ন প্রদেশে ‘বিধান পরিষদ’ বা ‘আইন পরিষদ প্রতিষ্ঠা হয়।
• ভাইসরয়ের কাউন্সিলের নাম হয় ইম্পেরিয়াল
লেজিসলেটিভ কাউন্সিল।
• ভাইসরয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলে একজন পঞ্চম সদস্য যােগ করা হয়। তিনি হলেন একজন জুরিস্ট।
• পাের্টফোলিও ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। ভাইসরয়ের।
এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের প্রত্যেক সদস্যকে একটি করে দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

• কাউন্সিল-এর হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয় উভয়স্তরের বাজেট নিয়ে আলােচনার কিন্তু তাদের ভােটদানের অধিকার ছিল না।
• নন-অফিসিয়াল সদস্যদের এবং প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদের পরােক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
• গভর্নর জেনারেল ইন কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয় ১০-১৬-এর মধ্যে।
• পরিষদে সদস্যদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসার অনুমতি দেওয়া হয়।

• আইন পরিষদের সদস্যদের সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সূচনা হয়।
• মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা হয়।
• প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানাে হয় ১৬-৬০এ।
• ৬০ জন সদস্যের মধ্যে ২৮ জন সরকারের মনােনীত ও ৩২ জন নন-অফিসিয়াল। ৩২ জনের মধ্যে ৫ জন
মনােনীত ২৭ জন নির্বাচিত।
• নন-অফিসিয়াল সদস্যদের পরােক্ষ নির্বাচনের দ্বারা নির্ধারণ করা হয়।
• উভয়স্তরে পরিষদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।

• ডায়ার্কি (Dyarchy) বা দ্বৈত ব্যবস্থা প্রদেশে চালু হয়।
প্রশাসনিক বিষয়কে ট্রান্সফার ও রিজার্ভ এই দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
• ট্রান্সফার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল শিক্ষা, লাইব্রেরি, জাদুঘর, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন, মেডিক্যাল ত্রাণ, নাগরিক স্বাস্থ্য, কৃষি,ইত্যাদি। সমবায় সমিতি, পাবলিক ওয়ার্কস, ভেটেরিনারি, ফিশারি,শুষ্ক, শিল্প, ওয়েটস অ্যান্ড মেজারমেন্টস, পাবলিক এন্টারটেনমেন্ট, ধর্মীয় ও দাতব্য বিষয়। রিজার্ভ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল ভূমি-রাজস্ব, দুর্ভিক্ষ-ত্রাণ,বিচার, পুলিশ, পেনশন, প্রিন্টিং প্রেস, জলসেচ, খনি,ফ্যাক্টরি, বিদ্যুৎ, শ্রমমন্ত্রক, মােটর ভেহিকল, ক্ষুদ্র বন্দর ইত্যাদি।
•প্রদেশগুলির উপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কমানাে হয়।
• কেন্দ্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বা বাই ক্যামেরাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয় যথা,
(ক) কাউন্সিল অফ স্টেটস বা উচ্চকক্ষ এবং
(খ) লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি বা নিম্নকক্ষ ।
•ভারত সচিব ও তাকে সাহায্যকারীদের বেতন দেওয়া হবে।ব্রিটিশ রেভিনিউয়ের ভেতর থেকে।
• লন্ডনে একজন হাইকমিশনার নিয়ােগ করা হয় ভারতের জন্য যিনি ভারতের কাজের দায়িত্ব থাকবেন।

•এই আইনে সারা ভারত ফেডারেশন বা সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন করার ব্যবস্থা ছিল।
•ভারত শাসন আইনে ৩২১টি অধ্যায় এবং ১০টি তালিকা বা schedule ছিল।
•ক্ষমতাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল যথা, ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় তালিকা, প্রাদেশিক তালিকা এবং যুগ্ম তালিকা। অবশিষ্ট ক্ষমতা গভর্নর জেনারেল এর হাতে ছিল।
• প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা করা হয়। ডায়ার্কিবা দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটে।
•গভর্নর জেনারেল এবং গভর্নরদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা দেওয়া হয়।
• আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা হয় ৬টি প্রদেশে। যথা,বাংলা, মাদ্রাজ, বােম্বাই, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, আসাম।
•প্রাদেশিক কাউন্সিলের ২৭৬টি আসনের মধ্যে ১০৪টি আসন এবং লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির ৩৭৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন রাজন্যবর্গের মনােনীত সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
• শিখ, ইউরােপীয়, ভারতীয়, খ্রিস্টান ও অ্যাংলাে ইন্ডিয়ানদের স্বতন্ত্র নির্বাচনের ব্যবস্থা হয়।
• ১৯৩৭ সালে দিল্লিতে ফেডারেল কোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হয় একজন প্রধান বিচারপতি সহ ৬ জন বিচারপতি নিয়ে।
• ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে উড়িষ্যা রাজ্যের সৃষ্টি হয়।

এরকম নতুন নতুন ইতিহাসের স্টাডি মেটেরিয়ালস ও অনান্য নোটস পেতে আমাদের মেনুতে ইতিহাস (History) পেজে যান এবং সেখানে সূচিপত্র হিসেবে বিভিন্ন স্টাডি মেটেরিয়ালস সাজানো রয়েছে আপনার যেটি প্রয়োজন সেটিতে ক্লিক করুন

Advertisements

Leave a Comment

Advertisements
Button
WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now