ডেভিড হেয়ার কেন স্মরণীয়?​ || David Hare

ডেভিড হেয়ার কেন স্মরণীয়?​

ডেভিড হেয়ার  স্মরণীয় এর কারন নিচে ব্যাখ্যা করা হোল –

 উনিশ শতকে ইউরোপের যে সকল ব্যক্তি বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলেন সমাজহিতৈষী ডেভিড হেয়ার
(১৭৭৫-১৮৪২ খ্রি.)।

হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা :

 ডেভিড হেয়ার ই  প্রথম কলকাতায় একটি আধুনিক ইংরেজি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের কথা চিন্তা করেন। অবশেষে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার হাইড ইস্ট-এর সমর্থনে ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে (২০ জানুয়ারি) কলকাতায় তার উদ্যোগে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজ প্রতিষ্ঠায় ডেভিড হেয়ারের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। দুটি পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্সি কলেজ নামে পরিচিতি হয় । 

কলকাতা স্কুল বুক সোসাইটিঃ 

হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত করার পর ঠিক এক বছর পরে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন । আর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন নতুন বিদ্যালয় স্থাপন এবং পুরনো বিদ্যালয়গুলিকে আধুনিকরণ করা  । নারী শিক্ষা বিস্তার ক্ষেত্রেও ডেভিড ইয়ারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।  তিনি নারীদের জন্য বিভিন্ন বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং বিনামূল্যে পুস্তক বিতরণ করেন । 

নারীশিক্ষা:

ডেভিড হেয়ার বাংলার নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। মেয়েদের জন্য কলকাতায় বেশ কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে নারীশিক্ষার পক্ষে এক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন।

মেডিকেল কলেজে ভর্তি:

সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে উনিশ শতকের প্রথম ভাগে স্থানীয় হিন্দু ছাত্ররা কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চাইত না। ডেভিড হেয়ার অবিরাম প্রচার চালিয়ে এবং স্থানীয় মানুষজনের মনের কুসংস্কার দূর করে ছাত্রদের এই কলেজে ভর্তি হতে
উৎসাহিত করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top