Science study materials (আলোক বিজ্ঞান)

Advertisements

Dear Students,

Gurucoolfanda.com চাকরির পরীক্ষার জন্য সে সমস্ত study materials দিচ্ছে (PSC|WBCS|RAIL|BANK|POST OFFICE|CLERK|GROUP-C|WBP SI|WBP Constable |BPS Banking) etc. সেগুলি সম্পন্ন বিনামুল্যে ,তাই দেরি না করে আমাদের ওয়েবসাইট দেখুন ও Pdf Download করুন ।

নিচে বিজ্ঞানের আলো চ্যাপ্টারের সম্পূর্ন বিস্তারিত আলোচনা করা হল । এই notes টি তোমরা নীচে দেওয়া লিঙ্ক থেকে সম্পূর্ন বিনামূল্যে pdf এ download করতে পারো ।

বিজ্ঞান

আলো

⇒আলােক : আলােক হল একরকম শক্তি, যার জন্য দর্শন অনুভূতিজন্মায়। আলাে বিভিন্ন বস্তুকে দেখতে সাহায্য করলেও নিজে অদৃশ্য।

আলােকীয় মাধ্যম : যে স্বচ্ছ মাধ্যমের ভিতর দিয়ে আলোেক চলাচলকরতে পারে, তাকে আলােকীয় মাধ্যম বলে।
>> যে স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলােক সর্বদিকে সমান বেগে চলতে পারে, সেই মাধ্যমকে সমসত্ত্ব বলে। যেমন- কাচ, বাতাস, জল ইত্যাদি সমসত্ত্ব মাধ্যম।
>>যে স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে আলােক সর্বদিকে সমান বেগে চলতে পারে না, তাকে অসমসত্ত্ব মাধ্যম বলে।
>> যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলােক চলাচল করতে পারে না, সেই মাধ্যমকে অস্বচ্ছ মাধ্যম বলে।
>>যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলােক আংশিকভাবে যেতে পারে, তাকে ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম বলে। যেমন- ঘষা কাচ, তেল লাগানাে কাগজ ইত্যাদি।
⇒আলােক রশ্মির প্রতিফলন : আলােক রশ্মির প্রতিফলন দুই প্রকার, যথা- (a) নিয়মিত প্রতিফলন এবং (b) বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন।
(a) নিয়মিত প্রতিফলন : সমান্তরাল আলােক-রশ্মিগুচ্ছ কোনাে মসৃণ সমতলে আপতিত হলে ওই রশ্মিগুলির প্রতিফলন, কতকগুলি নিয়ম মেনে চলে এবং প্রতিফলিত রশ্মিগুলি সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছরূপে একটি নির্দিষ্ট দিকে চলে যায়। এইরকম প্রতিফলনকে নিয়মিত
প্রতিফলন বলে। আয়নায় সূর্যের রশ্মি পড়ে যে প্রতিফলন হয় সেই প্রতিফলন হল নিয়মিত প্রতিফলন। কোনাে বস্তু থেকে নির্গত আলােক রশ্মি মসৃণ সমতলের (যেমন— আয়না, চকচকে ধাতব তল, স্থির জল) উপরে পড়ে নিয়মিত প্রতিফলনের ফলে প্রতিবিম্ব গঠন করে।
(b) বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন : সমান্তরাল আলােক রশ্মিগুচ্ছ কোনাে অমসৃণ তলে আপতিত হলে, ওই রশ্মিগুচ্ছ প্রতিনিয়ত রশ্মি প্রতিফলনের নিয়ম মেনে চললেও, অমসৃণ তল থেকে প্রতিফলিত রশ্মিগুলি সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছরূপে একটি নির্দিষ্ট দিকে না গিয়ে চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। এইরকম প্রতিফলনকে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন বলে। খসখসে কাগজ, বাড়ির দেওয়াল, ঘষা কাচ, সিনেমার পর্দা ইত্যাদি প্রতিফলক থেকে এইরকম বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয়। আলােক রশ্মি অমসৃণ
তলে আপতিত হয়ে যে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হয়, তার ফলে কোনাে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না শুধু প্রতিফলকটিকে দেখতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন বস্তু থেকে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের ফলেই আমরা বস্তুগুলিকে দেখতে পাই।
⇒প্রতিফলনের সূত্র:-
(i) আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে। (ii) আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়।
⇒ প্রতিবিম্ব :-
কোনাে বিন্দু উৎস থেকে আগত অপসারী আলােকরশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হয়ে যখন অন্য কোনাে বিন্দুতে মিলিত হয় কিংবা কোনাে বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তখন এই
দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দু উৎসের প্রতিবিম্ব বলে। প্রতিবিম্ব দুই রকম- (i) সদবিম্ব এবং (ii) অসদবিম্ব।
(i) সদবিম্ব : কোনাে বিন্দু উৎস থেকে আগত আলােক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হওয়ার পর, সত্যি সত্যি কোনাে বিন্দুতে মিলিত হয়ে যে প্রতিবিম্বের সৃষ্টি করে, তাকে প্রথম বিন্দুর সদবিম্ব
বলে। উদাহরণ- সিনেমার পর্দায় কিংবা ক্যামেরায় যে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় তা সদবিম্ব।
(ii) অসদবিম্ব : কোনাে বিন্দু উৎস থেকে আগত আলােক রশ্মিগুচ্ছ, প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত হওয়ার পর পরস্পর মিলিত না হয়ে যদি অন্য কোনাে বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তবে ওই দ্বিতীয় বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর অসদবিম্ব বলে, অসদবিম্ব পর্দায় ধরা যায় না। উদাহরণ- (a) আয়নায় যে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় তা হল অসদবিম্ব। (b) জ্যোৎস্না রাতে দিঘির স্থির জলে চাদের প্রতিবিম্ব
সৃষ্টি হয়, এই প্রতিবিম্বও অস। (c) পুকুরের জলে নারকেল গাছের যে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়, তা অসদবিম্ব। (d) মরুভূমিতে সৃষ্ট মরীচিকা হল অসদবিম্ব।

আলােকের প্রতিসরণ

⇒প্রতিসরণ : স্বচ্ছ এবং সমসত্ত্ব মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলােক রশ্মি সরলরেখায় চলে। আলােকরশ্মি যখন এক সমসত্ত্ব ও স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে ভিন্ন আলােকীয় ঘনত্বের অন্য আরাে একটি সমসত্ত্ব ও স্বচ্ছ
মাধ্যমের উপর তির্যকভাবে আপতিত হয়ে ওই দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন দুই মাধ্যমের বিভেদ-তল থেকে ওই রশ্মির গতির অভিমুখের পরিবর্তন হয়। দ্বিতীয় মাধ্যমে আলােক রশ্মির
গতিপথের এই রকম দিক পরিবর্তন করার ঘটনাকে আলােকের প্রতিসরণ বলে।
⇒প্রতিসরণের নিয়ম :
(i) আলােকরশ্মি যখন লঘু মাধ্যম (যেমন – বায়ু) থেকে ঘন মাধ্যমে (যেমন – কাচ) প্রবেশ করে, তখন প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে। তাই এক্ষেত্রে আপতন কোণ ( i)প্রতিসরণ কোণের (r) চেয়ে বড় হয়।

(ii) আলােক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম (যেমন, কাচ) থেকে লঘু মাধ্যমে (যেমন- বায়ু) প্রবেশ করে, তখন প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। সুতরাং এইক্ষেত্রে প্রতিসরণ কোণ, আপতন কোণের চেয়ে বড় হয়।

(iii) কোনাে আলােক রশ্মি লঘু মাধ্যম থেকে এসে ঘন মাধ্যমে, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলের উপর লম্বভাবে আপতিত হলে কিংবা ঘন মাধ্যম থেকে এসে লঘু মাধ্যমে, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলের উপর লম্বভাবে আপতিত হলে, ওই রশ্মির কোনাে দিক পরিবর্তন হয় না। সােজাসুজি দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে।

(iv) আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি এবং দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।

(v) বিভিন্ন বর্ণের আলােক রশ্মি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলের উপর একই কোণে আপতিত হলেও তারা বিভিন্ন কোণে প্রতিসৃত হয়। লাল বর্ণের আলাের ক্ষেত্রে প্রতিসরণ কোণ, অন্যান্য
বর্ণের আলাের প্রতিসরণ কোণের চেয়ে বেশি হয়।
⇒প্রতিসরণের সূত্র :
(i) আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদ তলের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে। (ii) দুটি নির্দিষ্ট মাধ্যমে নির্দিষ্ট বর্ণের আলােক রশ্মির প্রতিসরণে,
আপতন কোণের sine এবং প্রতিসরণ কোণের sine এর অনুপাত সর্বদা ধ্রুবক হয়।
⇒ প্রতিসরণের কয়েকটি প্রাকৃতিক ঘটনা :
(a) ঘন মাধ্যমে অবস্থিত কোনাে বস্তুকে লঘুতর মাধ্যম থেকে দেখলে বস্তুটি উপরের দিকে উঠে এসেছে বলে মনে হয়।

(b) কাচ ফলকের নীচে অবস্থিত কোনাে বিন্দুকে লঘুতর মাধ্যম
থেকে দেখলে বিন্দুটি উপরে উঠে এসেছে বলে মনে হয়।

(c) জলের ভিতর কোনাে মাছকে বায়ু মাধ্যম থেকে দেখলে প্রতিসরণের জন্য ওর সঠিক অবস্থান থেকে একটু উপরে ওঠা অবস্থায় দেখা যায়, ফলে জলের উপর থেকে মাছটিকে তির্যকভাবে লক্ষ করে বর্শা ছুড়লে, কিছুতেই মাছটিকে বিদ্ধ করা যায় না।

(d) একটি সােজা দণ্ডকে কাত করে জলে আংশিক ভােবালে দণ্ডটির জলতল থেকে জলে ডােবানাে অংশটি বাঁকা দেখায়।

(e) সূর্যোদয়ের কিছু আগে ও সূর্যাস্তের কিছু পরেও সূর্যকে দেখা যায়।

(f) অদৃশ্য টাকাকে দৃশ্য করা।

(g) নক্ষত্রের মিট মিট করে জ্বলতে থাকা।

(h) সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যকে সামান্য উপবৃত্তাকার দেখায়।

(i) মােটা কাচের দর্পণ দ্বারা বস্তুর বহু প্রতিবিম্ব গঠন করা যায়।
⇒সংকট কোণ বা সন্ধিকোণ:
আলােক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসৃত হওয়ার সময়, ঘন মাধ্যমে যে বিশেষ কোণে আপতিত হলে লঘু মাধ্যমে প্রতিসরণ কোণ 90° হয়, অর্থাৎ প্রতিসৃত রশ্মি দুই মাধ্যমের বিভেদ তল স্পর্শ করে যায়, ঘন মাধ্যমে ওই আপতন কোণটিকে ওই মাধ্যমদ্বয়ের সংকট কোণ বলে।
⇒সংকট কোণের শর্ত :
(a) আলােক রশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমের দিকে যেতে হবে এবং দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হতে হবে।
(b) লঘু মাধ্যমে প্রতিসরণ কোণের মান 90° হতে হবে। সংকট কোণের মান, আপতিত আলাের বর্ণ এবং মাধ্যম দুটির প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। যেমন বায়ু সাপেক্ষে কাচের সংকট কোণ 42° হয়। কিন্তু বায়ু সাপেক্ষে জলের সংকট কোণ 40°। নির্দিষ্ট দুটি মাধ্যমের ক্ষেত্রে, লাল বর্ণের আলােক রশ্মির সংকট কোণ, বেগুনি বা সবুজ বর্ণের আলােক রশ্মির সংকট কোণের চেয়ে বড় হয়।
উল্লেখ্য, বায়ুর সাপেক্ষে হীরকের সংকট কোণ 24.4° বলতে এই বােঝায় যে, হীরকের মধ্য থেকে আলােক রশ্মি হীরক ও বায়ুর বিভেদ তলে 24.4° কোণে আপতিত হলে প্রতিসৃত রশ্মি দুই মাধ্যমের বিভেদতল বরাবর চলে যাবে অর্থাৎ 90° প্রতিসরণ কোণ উৎপন্ন করবে।
⇒অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন :
ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমের দিকে যাওয়ার সময় আলােক রশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়েবেশি কোণে (i>৪) আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই
মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে। এই ঘটনাকে অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন বলে।
⇒অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের শর্ত :
আলােক রশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমের অভিমুখে যেতে হবে এবং দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হতে হবে।ঘন মাধ্যমে আপতন কোণটিকে ওই মাধ্যম দুটির সন্ধিকোণ বা সংকট কোণের চেয়ে বড় হতে হবে।
⇒অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের কয়েকটি দৃষ্টান্ত :
> >অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলনের প্রাকৃতিক দৃষ্টান্ত হল মরীচিকা।
>>গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড সূর্যকিরণে পিচের রাস্তা যখন খুব উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তখন রাস্তার দিকে তাকালে দূরে রাস্তাটিকে চকচকে এবং জলে ভিজে গেছে বলে মনে হয়। ভুসাকালি মাখানাে একটি লােহার বলকে জলে ডােবালে চকচকেদেখায়। ভুসাকালি মাখানাে কালাে রঙের লােহার বলটিকে জলে
ডােবালে বলটির গা চকচকে দেখায়, মনে হয় যেন একটি পারদের বল জলে ডােবানাে আছে।
>>হীরককে খুব উজ্জ্বল দেখায়।
>>পদ্মপাতার উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে চকচকে দেখায়।
>> জলের ভেতর থেকে যখন বাতাসের বুদবুদ উপরে ওঠে, তখনজলের উপরে বায়ু মাধ্যম থেকে দেখলে বুদবুদটি চকচকে দেখায়। শূন্য মাধ্যমে আলাের গতিবেগ হল প্রায় 3×10 মিটার/সেকেন্ড।
⇒বিভিন্ন মাধ্যমে আলাের বেগ :
>>বিভিন্ন মাধ্যমে আলাের গতিবেগ সংশ্লিষ্ট মাধ্যমের প্রকৃতির উপর। নির্ভর করে, তাই বিভিন্ন মাধ্যমে আলাের গতিবেগ বিভিন্ন হয়। ঘন মাধ্যমের চেয়ে লঘু মাধ্যমে আলাের বেগ বেশি।
>>শূন্য মাধ্যমে আলাের গতিবেগ চরম এবং পর্যবেক্ষক নিরপেক্ষ । অর্থাৎ দুই ব্যক্তির গতিবেগ বিভিন্ন হলেও উভয়ের কাছে আলাের গতিবেগ একই হবে।
>> মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক (L) বেশি হলে ওই মাধ্যমে আলাের বেগ কম হয়। প্রতিসরাঙ্ক কম হলে ওই মাধ্যমে আলাের বেগ বাড়ে। কোনাে স্বচ্ছ মাধ্যমের পরম-প্রতিসরাঙ্ক হল শূন্য মাধ্যমে আলােকের
বেগ এবং সেই মাধ্যমে আলাের বেগের অনুপাত।
⇒লেন্স : দুটি গােলীয় তল কিংবা একটি সমতল ও একটি গােলীয় তল দ্বারা ঘেরা সমসত্ত্ব, স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে। লেন্স প্রধানত দুই রকমের হয়

(a) উত্তল লেন্স বা অভিসারী লেন্স, (b) অবতল লেন্স বা অপসারী লেন্স।
(a) উত্তল লেন্স :

যে লেন্সের মাঝখানটা মােটা এবং কিনারা সরু এবং যার উপর সমান্তরাল আলােক রশ্মিগুচ্ছ আপতিত হলে লেন্সের মধ্যে প্রতিসৃত হওয়ার পর লেন্স থেকে নির্গত হওয়ার সময় অভিসারী হয়ে নির্গত হয়, সেই লেন্সকে উত্তল লেন্স বলে। সমান্তরাল আলােক রশ্মিগুচ্ছ এই লেন্সের উপর আপতিত হয়ে প্রতিসৃত হওয়ার পর লেন্স থেকে নির্গত হওয়ার সময় অভিসারী হয়ে নির্গত হয় বলে এই লেন্সকে অভিসারী লেন্স বলে।
⇒ উত্তল লেন্সের ব্যবহার :
> হাইপার মেট্রোপিয়া রােগের ক্ষেত্রে এই লেন্স ব্যবহার করা হয়। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এই লেন্স ব্যবহার করেন।
> মাইক্রোস্কোপে এই লেন্স ব্যবহার করা হয়।
>দ্বিনেত্র দূরবীক্ষণ যন্ত্রেও এই লেন্স ব্যবহার করা হয়। ম্যাগনিফাইং গ্লাসে এবং ক্যামেরার লেন্সে উত্তল লেন্স ব্যবহার করা হয়।
(b) অবতল লেন্স :
যে লেন্সের মাঝখানটা সরু, কিনারা মােটা এবং সমান্তরাল আলােক রশ্মিগুচ্ছ আপতিত হয়ে লেন্সের মধ্যে প্রতিসৃত হওয়ার পর লেন্স থেকে নির্গত হওয়ার সময় অপসারী রশ্মি গুচ্ছে পরিণত হয় সেই লেন্সকে অবতল লেন্স বা অপসারী লেন্স বলে।
⇒অবতল লেন্সের ব্যবহার :
>মায়ােপিয়া রােগের চিকিৎসায় অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়। ফ্ল্যাশলাইটে এই লেন্স ব্যবহার করা হয়।
> দরজার ফুটোয়, দ্বিনেত্র দূরবীক্ষণ যন্ত্রে, টেলিস্কোপে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়।
>ফটোগ্রাফিতে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়।
> চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে এই লেন্স ব্যবহার করা হয়।
⇒ বর্ণালি: 
সাদা আলাে প্রিজমের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের ফলে বিশ্লিষ্ট হয়ে সাতটি বিভিন্ন বর্ণের আলােকগুচ্ছে পরিণত হয়। প্রিজম থেকে নির্গত এই আলােকগুচ্ছকে পর্দায় ফেললে, পর্দায় ওই সাতটি বিভিন্ন বর্ণের আলােক দ্বারা তৈরি চওড়া যে পটি পাওয়া যায়, তাকে
বর্ণালি বলে। সাদা আলাের বিচ্ছুরণে প্রাপ্ত বর্ণালির মধ্যে যে সাতটি বর্ণ থাকে, সেই বর্ণগুলির ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষরগুলিকে বর্ণালিতে পাওয়া সাতটি বর্ণের ক্রম অনুযায়ী সাজালে ‘VIBGYOR (Violet, Indigo, Blue, Green, Yellow, Orange, Red) শব্দটি পাওয়া
যায়। অনুরূপভাবে বাংলা নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে সাজালে (বেগুনি, নীল, আকাশি, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল) ‘বেনীআসহকলা’ শব্দটি পাওয়া যায়।
বর্ণালি দুই প্রকার-
শুদ্ধ বর্ণালি: যে বর্ণালিতে সাদা আলাের সাতটি বর্ণ পৃথক স্থান দখল করে এবং এক বর্ণের রশ্মির সঙ্গে আর এক বর্ণের রশ্মি মিশে থাকে না, তাকে বিশুদ্ধ বর্ণালি বলে।
 অশুদ্ধ বর্ণালি: যে বর্ণালিতে একটি বর্ণের আলাে অন্য বর্ণের আলাের উপর পড়ার জন্য প্রত্যেকটি বর্ণকে সুস্পষ্টরূপে দেখা যায় না, তাকে অশুদ্ধ বর্ণালি বলে।
মৌলিক বর্ণ: বর্ণালি সাতটি বিভিন্ন বর্ণের (বেনীআসহকলা) মধ্যে তিনটি বিশেষ বর্ণকে যথাযথ মিশিয়ে যে কোনাে বর্ণ সৃষ্টি করা যায়। এই তিনটি বিশেষ বর্ণ হল লাল, সবুজ এবং নীল। অন্যান্য
বর্ণগুলিকে উপযুক্ত পরিমাণে মেশালেও এই বর্ণগুলিকে (লাল, সবুজ এবং নীল) তৈরি করা যায় না। তাই এই তিনটি বর্ণকে প্রাথমিক বা মৌলিক বর্ণ বলে।
 পরিপূরক বর্ণ : বর্ণালির সাতটি বর্ণের মধ্যে যদি কোনাে একটি বর্ণ বাদ দেওয়া হয়, তাহলে অবশিষ্ট বর্ণের মিশ্রণ আর সাদা হয় না— রঙিন হয়। যে বর্ণটি বাদ দেওয়া হল এবং তার ফলে অবশিষ্ট বর্ণ, মিলে যে বর্ণের সৃষ্টি করল, এদের মেশালে আবার সাদা বর্ণ পাওয়া যায়। এই দুটি বর্ণকে পরস্পরের পরিপূরক বর্ণ বলে। যেমন, বর্ণালির সাতটি বর্ণ থেকে হলুদ বাদ দিলে অবশিষ্ট বর্ণের মিশ্রণ নীল হয়। হলুদ এবং নীল বর্ণকে পরস্পরের পরিপূরক বর্ণ বলে। কমলা ও
আকাশি নীল পরস্পরের পরিপূরক বর্ণ। জলে সামান্য আয়রন লবণ থাকার জন্য সাদা কাপড় কাচার পর সামান্য হলুদ হয়ে যায়। হলুদ এবং নীল রং পরিপূরক বর্ণ। তাই কাচবার পর কাপড়ে নীল দিলে সাদা কাপড়কে ধবধবে সাদা দেখায়।

File Details:-

File Name:- আলোক বিজ্ঞান
File Format:Pdf
Quality:- High
Language:- Bengali
File Size:-  536kb
 

Note:পোস্টটিতে তোমাদের উপকার হলে বন্ধুদের সাথে অবশ্যই ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করো । নীচে দেওয়া facebook, what’s app icons click করে share করতে পারো ।

বিজ্ঞানের আরো নোটস স্টাডি মেটেরিয়ালস পেতে আমাদের উপরের মেনু টে science পেজ টি ওপেন করুন ।

Share the post
Advertisements

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisements
Button
WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now