Election Commision of India

who appoints the chief election commissioner of India?

Advertisements
Election Commision of India

Election commission of India (ভারতের নির্বাচন কমিশন )

 1. ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি :

👉ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার কয়েকটি উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য হল-
(১) ভারতে প্রত্যেকের জন্য সমান ভােটাধিকারের নীতি স্বীকার করা হয়েছে। এখানে সকলে মাথাপিছু একটি ভােট দেওয়ার অধিকার ভােগ করেন।
(2) ভারতে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সমসংখ্যক প্রতিনিধি নির্বাচিত হন।
(৩) ভারতে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিনির্বিশেষে নির্বাচনী প্রার্থী হওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

2. ভারতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission):

👉নির্বাচন কমিশন কেবলমাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে অথবা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কয়েকজন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। [৩২৪(২) ধারা)। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যা সম্পর্কে সংবিধানে কিছু বলা হয়নি। অন্যান্য কমিশনারের প্রয়ােজনীয়তা ও সংখ্যা রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করেন।

3. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্বাচনের তাৎপর্য (Significance) :

👉জনগণ যােগ্য, বিজ্ঞ, দক্ষ প্রার্থী নির্বাচন করতে পারলে তবেই সুষ্ঠুভাবে প্রয়ােজনীয় আইন প্রণীত হবে এবং সাফল্যের সঙ্গে শাসনকার্য সম্পাদিত হবে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উৎকর্ষের মান নির্বাচিত প্রার্থীদের গুণগত যােগ্যতার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সাফল্যের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করা জনগণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিশেষ। ন্যায্যভাবে ও বিচার-বিবেচনার সঙ্গে ভােটাধিকার ব্যবহারের ওপর গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।

4. ভারতে নির্বাচনী আচরণ (Code of conducts)সম্পর্কিত আলােচনায় উল্লেখযােগ্য উপাদান:

👉ভারতে নির্বাচনী আচরণ সম্পর্কিত আলােচনায় উল্লেখযােগ্য উপাদানগুলি হল—জাতি, ধর্ম, ভাষা, সম্প্রদায়,রাজনৈতিক মতাদর্শ, অর্থ, রাষ্ট্রনেতার ভাবমূর্তি প্রভৃতি।

5. নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের কার্যকাল (Terms):

👉নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারদের চাকরীর শর্তাদি ও কার্যকাল রাষ্ট্রপতি স্থির করেন। রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্ট প্রণীত আইনানুসারে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। ৬বছরের জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ােগ হয়।প্রকৃত প্রস্তানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের চাকরীর শর্ত, কার্যকাল প্রভৃতি পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

7. নির্বাচনে অসাধু আচরণ (Dishonest behaviors)বলতে কি বােঝায়?

👉নির্বাচনে অসাধু আচরণ বলতে বােঝায় নির্বাচনের দিন নির্বাচকদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা, উৎকোচ প্রদান, নির্বাচন কেন্দ্র থেকে ভােটপত্র অপসারণ ইত্যাদি।

৪. ভারতে সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের (Universal adult franchise) ভােটাধিকারের কয়েকটি ক্রটি:
 

👉ভারতে সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভােটাধিকারের কয়েকটি ত্রুটি হল : রাজনৈতিক বিবেচনাবােধের অভাব, ভােটদানের কম হার, বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি, ভাবাবেগের প্রাধান্য, অশিক্ষিত ভােটদাতা,শক্তিশালী বিরােধী দলের অভাব, রাজনৈতিক দলগুলির মিথ্যাচার ইত্যাদি।

9. নির্বাচনী আচরণবিধি (Code of conduct) প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা:

👉 নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল নির্বাচনবিধি জারী করা। দেশের নির্বাচনকে যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে ভারতের নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনী আচরণবিধি প্রণয়ন করে থাকে। রাজনৈতিক দলগুলি যাতে নির্বাচনের প্রাক্কালে হিংসার সাহায্য গ্রহণ না করে, সরকারী দল যাতে সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত না করতে পারে তার জন্য নির্বাচনবিধি জারী করা হয়।


10. কি কারণের জন্য একজন ব্যক্তিকে ভােটাধিকার থেকে বঞ্চিত (Deprived) করা যায় ?

👉কতকগুলি কারণে ব্যক্তিকে ভােটাধিকার দেওয়া হয় না।এই সমস্ত কারণগুলি হল : ভারতে বসবাস না করা, উপযুক্ত আদালত কর্তৃক মানসিকভাবে অসুস্থ বলে ঘােষিত, আদালত কতৃর্ক ভারতীয় দণ্ডবিধির বিশেষ ধারা অনুসারে অপরাধী বলে সাব্যস্ত; নির্বাচন সম্পর্কিত বে-আইনী কাজ বা অসাধু আচরণ প্রভৃতি।


11. ভারতে নির্বাচন কমিশনের কাজগুলি (Functions) কি কি?

👉নির্বাচন কমিশনের কাজগুলি হল :
(১) সংবিধান ও দেশের সাধারণ আইন অনুসারে নির্বাচন কমিশন পার্লামেন্ট, রাজ্যবিধানসভা এবং রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ তদারকি ও পরিচালনা করে।
(২) নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সম্পর্কিত যে কোনাে বিরােধ নিয়ে তদন্ত করার জন্য তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারে।
(৩) নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী প্রতীক প্রদান করে।

12. নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী প্রতীক প্রদান (Symbol distribution) সম্পর্কিত কাজ :

👉নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী প্রতীক প্রদান করে। অনেক সময় কোনাে রাজনৈতিক দলে ভাঙ্গন দেখা দেয়। তখন সেই দলের নির্বাচনী প্রতীরে দাবী নিয়ে বিরােধ সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই হল চূড়ান্ত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কংগ্রেস দল একসময় কংগ্রেস (ই)ও কংগ্রেস (স) দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। নির্বাচন কমিশন কংগ্রেস (ই)-কেই মূল কংগ্রেস দল হিসাবে স্বীকৃতি জানায়।

13. ভারতে বহু নির্বাচন কমিশনার’ (Multi member election commissioner) সম্পর্কিত বিতর্ক:


👉 ভারতীয় সংবিধানে কতজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে সে সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুসারে প্রয়ােজন মতাে মুখ্য কমিশনার হিসাবে তৎকালীন কমিশনার টি. এন. শেষন তার কার্যকালে এক বিতর্কের সূচনা করেন এবং তিনি একক নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসাবে কতকগুলি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ফলে ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দের ১লা অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বহু নির্বাচন কমিশনারের সূচনা করেন।

14. নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের কিভাবে পদচ্যুত (Sus-pended) করা যায়?

👉রাষ্ট্রপতি বা শাসকদল ইচ্ছামতাে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের পদচ্যুত করতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকারী দলের স্বৈরাচার রােধ করার ব্যবস্থা সংবিধানে আছে। সংক্ষেপে বলা যায় যে, সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিদের যে পদ্ধতিতে অপসারণ করা যায়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। সুতরাং, নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের পদচ্যুত করার ক্ষমতা পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতির হাতে যৌথভাবে ন্যস্ত করা হয়েছে।

15. নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে (Neutral) গড়ে তুলতে ভারতীয় সংবিধানে কি ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে?

👉 অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র সফল হতে পারে না।একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংস্থা ছাড়া নির্বাচন ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মত ভারতেও নির্বাচন সম্পর্কিত দায়দায়িত্ব আইনবিভাগ বা শাসনবিভাগের উপর ন্যস্ত করা হয়নি। সংবিধানের ৩২৪নং ধারা অনুসারে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকর্ম তত্ত্বাবধান ও পরিচালনার দায়িত্ব ও ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের ওপর।

16. ভারতে সমপ্রতিনিধিত্বের (Equal representation)নীতিটি কিভাবে গৃহীত হয়েছে?

👉 ভারতে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সমসংখ্যক প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। লােকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমানুপাতের নীতি অনুসরণ করা হয়। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বিধানসভার সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে যতজন নাগরিক পিছু একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন সেই সংখ্যাগত অনুপাত সমগ্র দেশে একই। লােকসভার সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এই সমানুপাতের নীতি মেনে চলা হয়। সমানুপাতের নীতির ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকাগুলি নির্দিষ্ট করা হয়।

17. মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ওপর সরকার কিভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে ?

👉 মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের চাকরীর শর্তাদি রাষ্ট্রপতি ধার্য করেন। বর্তমানে তিনি দুবছরের জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।তার কার্যকাল বৃদ্ধি করা হবে কিনা তা রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর
নির্ভরশীল। কিন্তু অনেক সময়ই রাষ্ট্রপতির এই সন্তুষ্টি নির্ভর করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সন্তুষ্টির ওপর। সেই কারণেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ওপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা প্রভাব বিস্তার করতে পারে
এবং এর ফলে নির্বাচন কমিশনের সুনাম নষ্ট হয়। অনেকে মনে করেন যে, এম. এল. শাকধরের কার্যকাল বৃদ্ধি করা হয়নি কারণ তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার প্রতি যথেষ্ট আনুগত্য দেখান নি বলে।

Share the post
Advertisements

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisements
Button
WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Group Join Now