১. ভাঙ্গর (Bhangar)
সংজ্ঞা: নদী অববাহিকার উঁচু অংশের প্রাচীন পলিমাটিকে ভাঙ্গর বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য: 1. নদী থেকে দূরে এই উঁচু ‘ভাঙ্গর’ অঞ্চলে বন্যার জল ঢুকতে পারে না। তাই নতুন পলি সঞ্চিত হতে পারে না 2.এই মাটির রং গাঢ়। এর জলধারণ ক্ষমতা কম।
প্রভাব: কম উর্বর হলেও পলিমাটি বলে ধান, আলু, সরিষা, বিভিন্ন শাকসবজি চাষ হয়।
২. ভুর কাকে বলে?
সংংজ্ঞা: ভারতের উত্তরের সুউচ্চ হিমালয় পর্বত এবং দক্ষিণের মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমির মধ্যবর্তী অংশে উত্তর ভারতের বিশালাকার সমভূমি অঞ্চল অবস্থিত। এই সমভূমি অঞ্চলের পশ্চিমদিকে বেশ কিছু ছোটো ছোটো বালিয়াড়ি দেখতে পাওয়া যায়। এগুলিকে বলা হয় ভুর।
৩. ধ্রিয়ান কী?
উত্তরঃ রাজস্থানের থর মরু অঞ্চলের চলমান বালিয়াড়িগুলিকে ধ্রিয়ান বলে।
উৎপত্তি: থর মরুভূমির পশ্চিমাংশের উদ্ভিদশূন্য মরুস্থলীতে বায়ু প্রবলবেগে প্রবাহিত হয়। এই প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে বালিয়াড়ির প্রতিবাত পার্শ্বের বালি উড়ে গিয়ে অনুবাত পার্শ্বে জমা হতে থাকে। এইভাবে বালিয়াড়ি বায়ুপ্রবাহের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। স্থানীয় অধিবাসীরা এগুলিকে ‘টিব্বা’ বলে।
৪.ধান্দ কী?
উত্তরঃ ধান্দ থর মরুভূমির লবণাক্ত হ্রদগুলিকে স্থানীয় ভাষায় ধান্দ বলে।
উৎপত্তি: মরু অঞ্চলে বায়ুর অপসারণ কাজের ফলে সৃষ্ট অবনত ভূমিতে বা দুটি সমান্তরাল বালিয়াড়ির মাঝে বৃষ্টির জল জমে এই অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি হয়। বছরের অধিকাংশ সময় এগুলি শুকনো থাকে। শুকনো হ্রদের উপরে লবণের স্তর দেখা যায়।
উদাহরণ: সম্বর (বৃহত্তম), কুমান, সারগোল প্রভৃতি থর মরুভূমির উল্লেখযোগ্য ধান্দ।
৫. বাগার কী?
রাজস্থানের মরু অঞ্চলের একেবারে পূর্বপ্রান্তে আরাবল্লী পর্বতের পাদদেশের সামান্য বালুকাময় অংশকে বাগার বলে।
বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চলটি প্রকৃতপক্ষে অর্ধ মরু অঞ্চল। এখানকার অধিকাংশ স্থান হালকা ঘাসে ঢাকা।
৬. রোহি কী?
থর মরুভূমির পূর্বপ্রান্তের বাগার অঞ্চলের পশ্চিমদিকে অবস্থিত প্লাবন সমভূমিকে রোহি বলে।
উৎপত্তি: আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিম ঢালে বৃষ্টির জলে সৃষ্ট কয়েকটি ছোটো ছোটো নদী বা অস্থায়ী জলধারা দ্বারা পলি সঞ্চিত হয়ে রোহি অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে।
বৈশিষ্ট্য: জলধারাগুলি ছোটো হওয়ায় প্লাবনের সময় অধিক পলল সঞ্চিত হয়। পলিসমৃদ্ধ হওয়ায় রোহি অঞ্চল উর্বর। এখানে শুষ্ক নদীখাত বা ওয়াদি দেখা যায়।
উদাহরণ: সিরোহী, সীকর, ঝুঁঝন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য রোহি অঞ্চল।
৭. দোয়াব অঞ্চল কাকে বলে?
সংজ্ঞা: ‘দো’ দুই এবং ‘আব’ জল। সাধারণত দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব বলে। দুই নদীর মিলিত পলিসঞ্চয়ের ফলে মাঝের সমতলভূমি দোয়াব রূপে গড়ে ওঠে।
উদাহরণ: গঙ্গা-যমুনা দোয়াব ভারতের বৃহত্তম দোয়াব অঞ্চল। এছাড়া গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র দোয়াব, সিন্ধু ও তার উপনদীর উপর গঠিত দোয়াবগুলি উল্লেখযোগ্য।
৮. বরেন্দ্রভূমি কী?
সংজ্ঞা: দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা জেলার পূর্বাংশে মহানন্দা নদী অববাহিকার প্রাচীন ও অনুর্বর পলিগঠিত সমভূমিকে ‘বরেন্দ্রভূমি’ বা ‘বারিন্দ’ বলে।
বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চলটি প্রাচীন পলি দ্বারা গঠিত। লাল ছোটো ছোটো টিলা দেখা এটি একটি তরঙ্গায়িত সমভূমি।
৯. পূর্ববর্তী নদী কাকে বলে?
সংজ্ঞা: যে নদী তার অববাহিকার নতুন করে উত্থানের ফলে সৃষ্ট ভূগাঠনিক প্রবণতা তথা ঢাল অনুসরণ না করে নিজের উপত্যকাকে গভীরভাবে কেটে আগেকার গতিপথ বজায় রাখতে সমর্থ হয়, সেই নদীকে পূর্ববর্তী নদী বলে।
উদাহরণ-হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি পূর্ববর্তী নদী।
১০. অন্তঃসলিলা বা ফল্গু নদী কাকে বলে?
সংজ্ঞা: নদী সাধারণত ভূপৃষ্ঠ বরাবর প্রবাহিত হয়। কিন্তু চুনাপাথরগঠিত অঞ্চলে কোনো কোনো সময় চুনাপাথরের সচ্ছিদ্রতা বা প্রবেশ্যতা বেশি (চুনাপাথর জলে দ্রবীভূত হয়) বলে নদী ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এই ধরনের নদীকে বলে অন্তঃসলিলা বা ফল্গু নদী।
বৈশিষ্ট্য: চুনাপাথরগঠিত অঞ্চল পার হয়ে নদীটি পুনরায় ভূপৃষ্ঠে আত্মপ্রকাশ করে। অন্ধ্রপ্রদেশের বোরাগুহালুতে গোস্থানী নদী এইভাবে প্রবাহিত হয়েছে।
১১.জলবায়ু অঞ্চল কাকে বলে?
সংজ্ঞা: জলবায়ুর দুই প্রধান উপাদান-উয়তা ও বৃষ্টিপাত দ্বারা জলবায়ু অঞ্চল নির্ণয় করা হয়। তাই জলবায়ু অঞ্চল বলতে এমন একটি অঞ্চলকে বোঝায়, যেখানে সর্বত্র উয়তা ও বৃষ্টিপাতের মধ্যে একটা সমতা বা সমভাব বজায় থাকে।
বৈশিষ্ট্য: ① জলবায়ু অঞ্চল খুব বড়ো হয়। ② জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে উয়তা ও বৃষ্টিপাত ছাড়াও আবহাওয়ার অন্যান্য উপাদানগুলির মধ্যেও একটা সমতা থাকে।
১২. মৌসুমি বিস্ফোরণের সংজ্ঞা দাও
সংজ্ঞা: গ্রীষ্মকালের শেষের দিকে, বিশেষত মে মাসে উত্তর- পশ্চিম ভারতে (রাজস্থানের মরুভূমি ও সংলগ্ন অঞ্চলে) এক গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপের আকর্ষণে সুদূর ভারত মহাসাগরের উচ্চচাপ এলাকা থেকে আর্দ্র বায়ু আরব সাগরীয় ও বঙ্গোপসাগরীয় শাখায় বিভক্ত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ভারতে প্রবেশ করে। এই বায়ু দক্ষিণ- পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নামে পরিচিত। গ্রীষ্মের অসহ্য গরমের মধ্যে আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আকস্মিকভাবেই ভারতে প্রবেশ করে। আকাশ মেঘে ঢাকা পড়ে। শুরু হয় বজ্রবিদ্যুৎ মোক্ষণ-সহ প্রবল বৃষ্টিপাত। এইভাবে ভারতে বর্ষাকালের সূচনা হয় বলে একে মৌসুমি বিস্ফোরণ (burst of monsoon) বলে।
১৩.’লু’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর ভারতে দিনের বেলা যে গরম বাতাস বয়ে যায় তা হল ‘লু’।
অঞ্চল: উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর ভারতের রাজস্থান, গুজরাট, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ অঞ্চলে এটি বয়ে যায়। রাজস্থানের থর মরুভূমি ‘লু’ বায়ুর প্রধান ক্ষেত্র।
কারণ: গ্রীষ্মকালে প্রবল উন্নতার দ্রুত তাপবিকিরণে ভূপৃষ্ঠসংলগ্ন বায়ু দ্রুত হারে উষু হয় এবং বায়ুচাপের ঢাল বেশি হওয়ায় এই বিকিরিত গরম বাতাস ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বয়ে যায়।
বৈশিষ্ট্য: (i) এটি অত্যন্ত উয় ও শুষ্ক বায়ু। (ii) সাধারণভাবে পশ্চিম দিক থেকে বয়। (iii) সকাল 10টার পর প্রবাহিত হয়, দুপুর বেলা বেগ বেশ বাড়ে (30-40 কিমি/ঘণ্টা) এবং সন্ধ্যার পর বেগ কমে।
১৪. রেগুর মৃত্তিকা কাকে বলে?★★
উত্তর ঃ দাক্ষিণাত্যের উত্তর-পশ্চিম অংশে লাভা গঠিত ব্যাসল্ট শিলা থেকে উৎপন্ন যে অতি উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে তাকে ‘রেগুর’ বলে।
গুরুত্ব: কার্পাস চাষ এই মাটিতে খুব ভালো হয় বলে এর অপর নাম ‘কৃষ্ণ কার্পাস মৃত্তিকা’।
বৈশিষ্ট্যঃ ১. এই মাতির রঙ কালো হয় । ২. এই মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমান বেশি থাকে ।
১৫.সিরোজেম মৃত্তিকা কাকে বলে?★★
উত্তর : মরুভূমিসংলগ্ন অঞ্চলের ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ ধূসর বর্ণের মৃত্তিকাকে সিরোজেম বলে। এই মৃত্তিকায় জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশ কম। ভারতে রাজস্থানের পূর্ব অংশে এই মৃত্তিকা দেখা যায়।
গুরুত্ব: এই মাটি শুষ্ক অবস্থায় অনুর্বর কিন্তু জল পেলে উর্বর হয়। তাই জলসেচের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন হয়।
১৬.ঝুম চাষ (Jhoom Cultivation) কাকে বলে?
উত্তর ঘন অরণ্য অঞ্চলের কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের গাছপালা কেটে, পুড়িয়ে পরিষ্কার করে কৃষিকাজ করা হয় তাকে ঝুম চাষ বলে । জমির উর্বরতা হ্রাস পেলে সেই স্থান থেকে অন্যত্র গিয়ে একই পদ্ধতিতে • গাছপালা পুড়িয়ে চাষ করা হয়। এইপ্রকার স্থানান্তর কৃষি পদ্ধতি উত্তর-পূর্ব ভারতে ঝুম চাষ বলে।
১৭. জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি বলতে কী বোঝ?
উত্তর : কৃষক তার নিজ পরিবারের খাদ্যের প্রয়োজনের উদ্দেশ্যে যে কৃষিকাজ সম্পাদন করে তা জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি।
বৈশিষ্ট্য: (ⅰ) উৎপাদিত ফসলের বেশিরভাগটাই নিজ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। (ii) সামান্য উদ্বৃত্ত ফসলের বাকি অংশ বিক্রি করে জীবনধারণের বাকি উপকরণ ক্রয় করে।
উদাহরণ: ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধান চাষ জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষির অন্তর্গত।
১৮. মিলেট: কি ?
* জোয়ার, বাজরা, রাগি প্রভৃতি স্বাদে নিম্নমানের ফসলকে একসাথে মিলেট বলে।
বৈশিষ্ট্য: মিলেটের খাদ্যগুণ বেশি। ভারতের মালভূমি অঞ্চলে যেখানে সেচের সুযোগ কম মাটি অনুর্বর সেখানে মিলেট চাষ হয়। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, রাজস্থান প্রভৃতি মিলেট উৎপাদক রাজ্য।
১৯. ভারতীয় কৃষির বৈশিষ্ট্য লেখ ।
(i) জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি,(ii) কৃষির ওপর অত্যধিক জনসংখ্যার চাপ, (iii) কৃষি মৌসুমি বৃষ্টিপাত নির্ভর, (iv) কৃষিতে পশুশক্তির প্রাধান্য ও উন্নত যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত, (v) ছোটো ছোটো জমি, (vi) ফসল উৎপাদনে খাদ্যশস্যের প্রাধান্য, (vii) জলসেচের ব্যবহার সীমিত, (viii) বহু শস্যের উৎপাদন প্রভৃতি হল ভারতীয় কৃষির প্রধান বৈশিষ্ট্য।
২০. বাগিচা ফসল বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে প্রাচীন উপনিবেশ অধ্যুষিত অঞ্চলে রপ্তানি নির্ভর যে বাণিজ্যিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তা হল বাগিচা ফসল।
বৈশিষ্ট্য : (i) বিদেশি মূলধনের সাহায্যে এই কৃষিব্যবস্থা গড়ে ওঠে। (ii) বড়ো বড়ো এস্টেটে চাষ হয়। (iii) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে ফসল উৎপাদন হয়। (iv) প্রক্রিয়াজাত করার পর রপ্তানি হয়। (v) স্থানীয় শ্রমিক ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ : ভারতে চা, কফি, রবার, সিঙ্কোনা বাগিচা ফসল।
২১.ঝুম চাষ (Shifting Cultivation) কাকে বলে?।
উত্তরঃ ভারতের উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত • মানুষ বন কেটে ও পুড়িয়ে জমি তৈরি করে চাষ করে। কিছু বাদে মাটির উর্বরতা কমে গেলে ওই জমি পরিত্যাগ করে অন্য একটি জমি তৈরি করে চাষ করে। একে ঝুম চাষ বলে। এটি একপ্রকার না স্থানান্তর কৃষির উদাহরণ।
২২.দুর্গাপুরকে কেন ‘ভারতের রুঢ়’ বলা হয়?
উত্তরঃ জার্মানির রূঢ় নদীর অববাহিকার ওয়েস্ট ফেলিয়া কয়লাখনির ওপর ভিত্তি করে যেমন ইস্পাত কেন্দ্র এবং তার ওপর ভিত্তি করে অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে তেমনি পশ্চিমবঙ্গের দামোদর অববাহিকার ঝরিয়া, রানিগঞ্জ কয়লাখনির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে দুর্গাপুর ইস্পাত কেন্দ্র এবং তার ওপর ভিত্তি করে অসংখ্য ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। তাই দুর্গাপুর হল ভারতের রূঢ়।
২৩. কয়াল কি ?
সংজ্ঞা: কেরালা রাজ্যের মালাবার উপকূলের উপহ্রদগুলিকে ‘কয়াল’ বলা হয়।
উৎপত্তি: ভারতের দক্ষিণে পশ্চিম উপকূল বরাবর কেরালার মালাবার উপকূল বিরাজ করছে। প্রায় 225 কিমি দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট মালাবার উপকূলটিতে ভূআন্দোলনজনিত কারণে কিছু কিছু অংশ উত্থিত ও নিমজ্জিত হয়ে কয়াল সৃষ্টি করে। অবনমিত অঞ্চলগুলিতে উপহ্রদ বা কয়ালের উৎপত্তি ঘটেছে। এগুলি স্থলভাগ দ্বারা আবৃত থাকে তবে একদিক সমুদ্রের মধ্যে উন্মুক্ত থাকে।
বৈশিষ্ট্য:এগুলি লবণাক্ত জলের হ্রদ।এগুলি স্থলভাগ দ্বারা আবদ্ধ এবং একদিক সমুদ্রে উন্মুক্ত। কয়ালগুলি অগভীর হলেও দীর্ঘ হয়।
উদাহরণ :ভেম্বনাদ (ভারতের বৃহত্তম), অষ্টমুদি, কোট্টম্, কায়মকুলাম, কুট্টানাড, আলেপ্পি প্রভৃতি।
২৪.জলবিভাজিকা উন্নয়ন কী? অথবা, জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা কাকে বলে?
সংজ্ঞা: যে সামগ্রিক কারিগরী পরিকল্পনার মাধ্যমে সমগ্র নদী অববাহিকা অঞ্চলের ভূমিক্ষয়, ধস, বন্যা ও খরা প্রতিরোধ করে জমি, মাটি, জল ও বনভূমির সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র, পরিবেশের উপাদান ও সম্পদের স্থায়ী উন্নয়ন করা যায়, তাকে জলবিভাজিকা উন্নয়ন বা ব্যবস্থাপনা (Watershed Management) বলে।
উদাহরণ: গঙ্গা নদী, দামোদর নদ-এর জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা।
২৫.’Rain Water Harvesting’ কাকে বলে?
উত্তরঃ জলের বহুবিধ চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে বর্ষা ঋতুতে প্রাপ্ত জলের বিভিন্ন পদ্ধতিতে সঞ্চয়ের মাধ্যমে শুষ্ক মরশুমে ব্যবহার ও ভৌম জলভান্ডার গড়ে তোলার পদ্ধতি ‘Rain Water Harvesting’ নামে পরিচিত।
বৃষ্টির জল সংরক্ষণের গৃহীত পদ্ধতিসমুহ: জলাধার নির্মাণ, কূপখনন, রিচার্জ পিট এবং রিচার্জ ট্রেঞ্চ নির্মাণ।
২৬. আম্রবৃষ্টি (Mango Shower)
সংজ্ঞা: গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ মার্চ মে মাসে দক্ষিণ ভারতে বজ্রবিদ্যুৎসহ যে ঝড়বৃষ্টি হয় তাকে আম্রবৃষ্টি বলে।
* নামকরণ : এই ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে মূলত তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশে আম চাষ ভালো হয় বলে একে আম্রবৃষ্টি বলা হয়ে থাকে।
* বৈশিষ্ট্য: আম্রবৃষ্টির ফলে প্রায় 25 সেমি-এর মতো বৃষ্টিপাত ঘটে। তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশে এর প্রভাব সবথেকে বেশি।
* কর্ণাটকে এই বৃষ্টির ফলে কফি চাষে অত্যন্ত সুবিধা হয় বলে অনুরূপ ঝড়বৃষ্টিকে চেরি ব্লসম (Cherry Blossom) বলা হয়।
২৭. আঁধি (Andhi) কি ?
সংজ্ঞা: গ্রীষ্মকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বিশেষত রাজস্থানে যে প্রবল ধূলিঝড় হয়, তাকে আঁধি বলে।
উৎপত্তি: থর মরুভূমি সংলগ্ন অঞ্চলে প্রখর সৌরকিরণে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। নিম্নচাপের আকর্ষণে চারিদিক থেকে বায়ু ছুটে এসে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি করে। এই বায়ুতে জলীয় বাষ্প না থাকায় বৃষ্টি হয় না। তবে ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে মরুভূমির বালি মিশে এই ঝড়ের সৃষ্টি করে।
বৈশিষ্ট্য: আঁধির আগমনে আকাশ কালো হয়ে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। আঁধি মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য বিকেলে প্রবাহিত হয়। এর গতিবেগ ঘণ্টায় 50-80 কিমি। আঁধির প্রভাবে উন্নতা 3°C-5°C কমে যায়।
২৮. কালবৈশাখী (Kalbaisakhi) কি ?
সংজ্ঞা: এপ্রিল-মে মাসে অর্থাৎ, গ্রীষ্মকালে পূর্ব ভারতে মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে মাঝে মাঝে বিকেলে বা সন্ধের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি হয়, একে কালবৈশাখী বলে।
নামকরণ: মূলত বৈশাখ মাসে এই ঝড় হয় বলে একে ‘কালবৈশাখী’ বলে। উত্তর-পশ্চিম (North-West) দিক থেকে আসে বলে এই ঝড়ের অপর নাম Norwester।
বৈশিষ্ট্য: এর ফলে উয়তা প্রায় 5°C – 10°C কমে এবং আবহাওয়া আরামদায়ক হয়। এই ঝড়ের গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় 60-80 কিমি। কালবৈশাখীতে অনেক সময় শিলাবৃষ্টি হয়। অসমে এই ঝড় বরদৈছিলা নামে পরিচিত।
২৯. MONEX কি ?
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (World Meteorological Or-ganization বা WMO) এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গোষ্ঠী-এর যৌথ উদ্যোগে 1969 সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব বায়ুমণ্ডল গবেষণা প্রকল্পের (Global Atmospheric Research Programme) অধীনে উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তির সময়, প্রবাহপথ, স্থায়িত্বকাল, প্রত্যাগমনকাল প্রভৃতি সম্পর্কে গবেষণার বিশেষ কর্মসূচিকে Monsoon Experiment বা সংক্ষেপে MONEX বলা হয়।
ম্যানেজমেন্ট কেন্দ্র: মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ও ভারতের নিউ দিল্লির মৌসম ভবন।
৩০. হিউমিফিকেশন কাকে বলে ?
সংজ্ঞা: বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ মৃত্তিকা মধ্যস্থিত সূক্ষ্ম জীবাণু দ্বারা বিয়োজিত হয়ে মাটির ওপরের স্তরে এক ধরনের কালো রঙের জটিল জৈব পদার্থের স্তরের সৃষ্টি হয়, একে হিউমাস বলে। হিউমাস সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে হিউমিফিকেশন (Humification) বলে।
বৈশিষ্ট্য:(i) মাটির হিউমাসের প্রধান উপাদানগুলি হল কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, সালফার, ফসফরাস, লিগনিন, প্রোটিন, ফ্যাট ইত্যাদি।(ii) হিউমাস কলয়েড ধনাত্মক আয়নযুক্ত। (iii)হিউমাসের ক্যাটায়ন বিনিময় ক্ষমতা খুব বেশি।
৩১. ড্যুরিক্রাস্ট কাকে বলে ?
সংজ্ঞা: ল্যাটেরাইট মাটির উপরিভাগের কঠিন আস্তরণকে ড্যুরিক্রাস্ট বলে।
উৎপত্তি: সাধারণত, অধিক তাপমাত্রা (25° C) ও বৃষ্টিপাতযুক্ত (200 – 250 সেমি) ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে ল্যাটেরাইট মাটি সৃষ্টি হয়। অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য জলের সঙ্গে দ্রবীভূত পদার্থ যেমন- সিলিকা, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম প্রভৃতি ধৌত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে মাটির উপরিস্তর থেকে নীচে অপসারিত হয়। কিন্তু, অদ্রবীভূত লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের জারিত কণাগুলি সেসক্যুইঅক্সাইড রূপে মাটির উপরিপৃষ্ঠে সঞ্চিত হয়। ঋতুভেদে জলস্তরের ওঠানামার কারণে এই সেসক্যুইঅক্সাইড জমাট বেঁধে ইটের মতো শক্ত গাঢ় লাল রঙের ভূত্বক বা ড্যুরিক্রাস্ট গঠন করে।
৩২. মৃত্তিকার গ্রথন (Soil Texture) কাকে বলে?
উত্তর ঃ মৃত্তিকায় উপস্থিত বিভিন্ন আকৃতির, 2 মিমির কম ব্যাসযুক্ত মাটি গঠনকারী অপ্রাকৃতিক খনিজ কণা যেমন- বালি, পলি ও কাদাকণার আপেক্ষিক অনুপাতকে মৃত্তিকার গ্রথন বলা হয়।
মৃত্তিকার গ্রথন হল মৃত্তিকার একটি স্থায়ী ভৌত ধর্ম। গ্রথন মূলত তিনপ্রকার। যথা – সূক্ষ্ম, মাঝারি, স্থূল। যার মধ্যে কাদা হল সূক্ষ্ম কণা, পলি হল মাঝারি কণা এবং বালি হল বড়ো কণা।
৩৩.বভূমি বা অপভূমি (Badland Topography) বলতে কী বোঝো?
সংজ্ঞা: শুষ্ক অঞ্চলে হঠাৎ বৃষ্টির প্রভাবে রিল, গালি ও র্যাভাইন ক্ষয়ের দ্বারা মৃত্তিকা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে উঁচু-নীচু, ক্ষয়প্রাপ্ত, অনুর্বর ভূমির সৃষ্টি করে, তাকে বভূমি বা অপভূমি (Badland Topography) বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য: বভূমি বা অপভূমি প্রধানত শুষ্ক বা শুষ্কপ্রায় অঞ্চলে পরিলক্ষিত হয়। এই ভূমিগুলি খাড়া ঢালবিশিষ্ট, অসমতল ও বন্ধুর প্রকৃতির।
উদাহরণ : উত্তর-পশ্চিম ভারতের চম্বল উপত্যকা, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গনগনিতে এই বভূমি বা অপভূমি পরিলক্ষিত হয়।
৩৪. শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা (Physiologically Dry Soil) বলতে কী বোঝো?
উত্তর সংজ্ঞা: যে মৃত্তিকায় লবণের পরিমাণ বেশি থাকার জন্য পর্যাপ্ত জল থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ তা গ্রহণ করতে পারে না, সেই মৃত্তিকাকে শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলে।
বৈশিষ্ট্য:(i) এই মৃত্তিকা অত্যধিক লবণাক্ত। (ii)এই মৃত্তিকায় NaCl, MgCl₂ জাতীয় ধাতব লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। (iii)এই মৃত্তিকাতে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে। (iv)সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, হোগলা প্রভৃতি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ এই মাটিতে ভালো জন্মায়।
উদাহরণ: সুন্দরবনের লবণাক্ত মৃত্তিকা।
৩৫. স্থানান্তর কৃষি (Shifting Cultivation)
উত্তর সংজ্ঞা: প্রধানত ক্রান্তীয় বৃষ্টিবহুল অরণ্য অঞ্চলে বসবাসকারী উপজাতি গোষ্ঠী যে আদিম কৃষিপদ্ধতিতে জঙ্গল কেটে ও পুড়িয়ে জমি তৈরি করে কেবলমাত্র জীবনধারণের উদ্দেশ্যে শস্য উৎপাদন করে এবং কয়েক বছর অন্তর মাটির উর্বরাশক্তি হ্রাসের কারণে জমি পরিবর্তন করে, তাকে স্থানান্তর কৃষি বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য: (i)এই কৃষিব্যবস্থায় কোনো প্রকার অর্থকরী ফসল উৎপাদন করা হয় না। (ii)মূলত খাদ্যের চাহিদা নিবারণের জন্য এইপ্রকার কৃষিকাজ করা হয়।
৩৬. রেটুন (Ratoon) কী?
উত্তর ঃ প্রথমবার আখ কাটার পর জমিতে থাকা গোড়া থেকে আখের যে চারা জন্মায়, তাকে রেটুন (Ratoon) বলে। ভারতে এই রেটুন আখের চাষ বেশি হয়।
রেটুন চাষের সুবিধা: রেটুন আখের উৎপাদন বেশি হয়, প্রায় 90-100 টন/হেক্টর। এক্ষেত্রে চাষের খরচ কম হয়।এই চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায় ও পরিণত হয়। রেটুন প্রক্রিয়াজাত ইক্ষুগুলি অধিক মাত্রায় রসালো হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে চিনি পাওয়া যায়।
৩৭ ট্রাক ফার্মিং (Truck Farming) কাকে বলে?
উত্তর সংজ্ঞা: শহর বা নগরের উপকন্ঠে অর্থাৎ, শহরতলির উদ্যান কৃষি খামারগুলি থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় শাকসবজি, ফুল, ফল, প্রতিদিন সতেজ অবস্থায় ট্রাকে করে অতি দ্রুত শহরাঞ্চলের বাজারে প্রেরণ করা হয়, একেই ট্রাক ফার্মিং বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য: ট্রাক ফার্মিং উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বাজারের চাহিদার ওপর এই কৃষির সাফল্যতা নির্ভর করে থাকে। বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই কমবেশি ট্রাক ফার্মিং পরিলক্ষিত হয়। তবে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই কৃষিপদ্ধতি অধিক মাত্রায় জনপ্রিয়।
৩৮. ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প অথবা, পূর্ত শিল্প কাকে বলে ?
উত্তর সংজ্ঞা: উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যা ও দক্ষ কলাকৌশলের দ্বারা লোহা ও ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, দস্তা প্রভৃতি ধাতব উপকরণ এবং রবার,প্লাস্টিক প্রভৃতি অধাতব উপকরণ দিয়ে ভারী অথবা হালকা, জটিল অথচ সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি, কল-কবজা, যন্ত্রাংশ তৈরি করাকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বা পূর্ত শিল্প বলে।
উদাহরণ: হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প – ঘড়ি, বৈদ্যুতিক পাখা, টিভি প্রভৃতি তৈরি।ও ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প- রেলইঞ্জিন, মোটরগাড়ি, জাহাজ নির্মাণ প্রভৃতি।
৩৯. অনুসারী শিল্প বা ডাউনস্ট্রিম ইন্ড্রাস্ট্রি কাকে বলে?
উত্তর সংজ্ঞা: কোনো বৃহদায়তন শিল্প থেকে যেসব দ্রব্য উৎপাদিত হয়, সেইসব শিল্পজাত দ্রব্যকে কাঁচামালরূপে ব্যবহার করে গড়ে ওঠা ছোটো ছোটো শিল্পকে অনুসারী শিল্প (Downstream Industry) বলে।
উদাহরণ: পেট্রোরসায়ন শিল্প থেকে উৎপন্ন প্লাস্টিক বা পিভিসি শিটকে ব্যবহার করে বহুপ্রকার প্লাস্টিক (চেয়ার, টেবিল, বালতি, মগ প্রভৃতি) শিল্প গড়ে উঠেছে।
৪০. চেন্নাইকে ‘ভারতের ডেট্রয়েট’ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মিচিগান হ্রদের তীরে অবস্থিত ডেট্রয়েট হল পৃথিবীর বৃহত্তম মোটরগাড়ি নির্মাণকেন্দ্র। 1896 সালে এই শহরে ফোর্ড (Ford) কোম্পানির মাধ্যমে মোটরগাড়ি শিল্পের বিকাশ ঘটে। এখানে যেমন পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোটরগাড়ি নির্মাণ হয়ে থাকে, তেমনি ভারতের চেন্নাই-এ দেশের প্রায় 30% চার চাকার যান, 35% অটোমোবাইল উপাদান তৈরি হয়ে থাকে। চেন্নাই-এর উল্লেখযোগ্য মোটরগাড়ি কোম্পানিগুলি হল- অশোক লেল্যান্ড, বি এম ডব্লিউ, হুন্ডাই প্রভৃতি। মোটরগাড়ি নির্মাণ – শিল্পের বিকাশের কারণেই চেন্নাইকে ডেট্রয়েট-এর সঙ্গে তুলনা করে ‘ভারতের তথা এশিয়ার ডেট্রয়েট’ অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
৪১.আউটসোর্সিং (Outsourcing) কী?
উত্তর: আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে শিল্পের অবস্থান ও উন্নতির উপর শ্রমিকের অবস্থানের প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। কারণ, বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থাগুলি পৃথিবীর যেখানেই সস্তায় দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়, সেখান থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করে নিজের সংস্থায় তাদের নিয়োগ করে। এক স্থান থেকে আর এক স্থানে বা এক দেশ থেকে আর এক দেশে শ্রমিক নিয়ে এসে তার প্রয়োজনীয় কাজ করিয়ে নেয়ার ব্যাবস্থা কে আউটসোর্সিং বলে ।
৪২. জনঘনত্ব (Population Density) কাকে বলে ?
সংজ্ঞা: কোনো দেশ বা অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা এবং ওই দেশ বা অঞ্চলের মোট আয়তনের অনুপাতকে জনঘনত্ব বলে। অর্থাৎ, কোনো দেশের প্রতি বর্গএকক স্থানে যতজন মানুষ বসবাস করে, তাকে ওই দেশের জনঘনত্ব বলে।
সূত্র : জনঘনত্ব = দেশের মোট জনসংখ্যা / দেশের মোট আয়তন
বৈশিষ্ট্য: জন বণ্টনের সূচক হল জনঘনত্ব। জনঘনত্ব দ্বারা কোন অঞ্চলের জনসংখ্যার তারতম্য জানা যায় ।
৪৩. জনসংখ্যা অভিক্ষেপ (Population Projection)
উত্তর সংজ্ঞা: কোনো দেশ বা সমগ্র পৃথিবীর পূর্ববর্তী বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা দশকীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করে আগামী বছরগুলির আনুমানিক জনসংখ্যার পূর্বাভাসকে জনসংখ্যার অভিক্ষেপ বলে।
বৈশিষ্ট্য: জনসংখ্যা অভিক্ষেপের দ্বারা কোনো দেশের ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা করা যায়।
উদাহরণ: ভারতের জনসংখ্যা অভিক্ষেপ অনুসারে ভারতের জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই ধারা বজায় থাকলে ভারতের জনসংখ্যা 2050 সাল নাগাদ 166 কোটিতে গিয়ে পৌঁছাবে।
৪৪. জনবিস্ফোরণ (Poulation Explosion) বলতে কী বোঝো?
উত্তর সংজ্ঞা: অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার উচ্চ বা অস্বাভাবিক হলে বা বার্ষিক বৃদ্ধির হার 2% অতিক্রম করলে তখন সেই অবস্থাকে জনবিস্ফোরণ বলে।
৪৫. পোতাশ্রয় (Harbour) বলতে কী?
উত্তর ঃ পোত অর্থাৎ জাহাজের আশ্রয়স্থল হল পোতাশ্রয়। বন্দরের যে অংশে জাহাজগুলি নিরাপদে আশ্রয় নেয়, পণ্য বোঝাই বা খালাস করে এবং জাহাজ মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে পোতাশ্রয় বলে।
* শ্রেণিবিভাগ:
উৎপত্তি অনুসারে পোতাশ্রয় দুই প্রকার–
স্বাভাবিক পোতাশ্রয়: স্বাভাবিক অর্থাৎপ্রাকৃতিকভাবে কোনো খাঁড়ি বা উপসাগরে গভীর পোতাশ্রয় গড়ে উঠলে তাকে স্বাভাবিক পোতাশ্রয় বলে।
কৃত্রিম পোতাশ্রয়: মানুষের প্রচেষ্টায় কৃত্রিম উপায়ে যখন পোতাশ্রয় নির্মাণ করা হয় তাকে কৃত্রিম পোতাশ্রয় বলে।
উদাহরণ: মুম্বাই, কান্ডালা, বিশাখাপত্তনমের পোতাশ্রয় স্বাভাবিক প্রকৃতির। অন্যদিকে চেন্নাই, কলকাতা বন্দরের পোতাশ্রয় কৃত্রিম প্রকৃতির।
৪৬. বন্দর (Port) কাকে বলে?
উত্তরঃ বন্দরের ইংরেজি শব্দ ‘Port’-এর উৎপত্তি লাতিন শব্দ ‘Porta’ থেকে যার অর্থ ‘দ্বার’ বা ‘প্রবেশপথ’। জলভাগ থেকে স্থলভাগে বা স্থলভাগ থেকে জলভাগে প্রবেশের পথ বা দ্বারকে বন্দর বলে। কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। উদাহরণ- মুম্বাই, কলকাতা, বিশাখাপত্তনম বন্দর প্রভৃতি।
৪৭. প্ল্যাটফর্ম (Platform) কাকে বলে ?
উত্তর সংজ্ঞা: যে স্থান থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠের চিত্র বা তথ্যসংগ্রহ করা হয়, তাকে প্ল্যাটফর্ম বলে।
শ্রেণিবিভাগ: প্ল্যাটফর্ম মূলত তিনপ্রকার, যথা-ভূপৃষ্ঠসথ প্ল্যাটফর্ম (Ground Borne Platform): এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম ভূমির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ভূমির ওপর থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠের চিত্র সংগ্রহ করা হয়। উদাহরণ- Radar, Tripod
৪৮. ছদ্ম রং (False Colour Composite) বা FCC
উত্তর সংজ্ঞা: FCC-এর পুরো কথা হল False Colour Composite | উপগ্রহ চিত্র প্রস্তুত করার সময় লক্ষ্যবস্তুর প্রকৃত রঙের বহিঃপ্রকাশ না করে যদি অন্য রং দ্বারা প্রকাশ করা হয়, তবে তাকে ছদ্ম রং বা False Colour Composite বলে।
এই ছদ্ম রং ব্যবহারের কারণ- ছদ্ম রং ব্যবহার করা হলে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন বস্তুকে পৃথক পৃথক ভাবে চিহ্নিত করা যায়। উপগ্রহ থেকে প্রেরিত ছবিকে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করার জন্য কোনো বস্তুর প্রকৃত রঙের পরিবর্তে ছদ্ম রং ব্যবহার করা হয়। উপগ্রহ চিত্রে ছদ্ম রং ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং সেনাবাহিনীর নানা কাজ সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা যায়।
৪৯.স্পট হাইট (Spot Height) কাকে বলে?
উত্তর ঃ যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর সাহায্যে কোনো টোপো মানচিত্রে কোনো স্থানের নির্ণায়িত বা জ্ঞাত উচ্চতা দেওয়া থাকে, তাকে স্পট হাইট বলে। টোপো মানচিত্রে এগুলি কালো বিন্দু দিয়ে দেখানো হয় এবং পাশে উচ্চতা যেমন- 497 মিটার, 267 মিটার প্রভৃতি উল্লেখ করা হয়ে থাকে।
৫০. ব্যান্ড (Band) বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের একটি ক্ষুদ্রতম অংশ হল ব্যান্ড। অপরপক্ষে, পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনো বস্তু থেকে প্রতিফলিত তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ উপগ্রহ সেন্সরে স্থাপিত ডিভাইসের যে নির্দিষ্ট অংশে লিপিবদ্ধ হয়, তাকে ব্যান্ড (Band) বলে।
উদাহরণ: লাল ব্যান্ড, নীল ব্যান্ড, সবুজ ব্যান্ড।
বৈশিষ্ট্য: উপগ্রহ দ্বারা গৃহীত প্রতিচ্ছবিগুলির ব্যান্ড-এর বিভিন্নতার জন্য রং-এর বৈশিষ্ট্যে বিভিন্নতা দেখা যায়। ছদ্ম রঙের চিত্র প্রস্তুতিতে ব্যান্ডের গুরুত্ব অপরিসীম।
৫১.বেঞ্চমার্ক (Bench Mark) কাকে বলে?
উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠের উপর নির্মিত কোনো স্থায়ী বস্তুর উপর চিহ্নিত সর্বোচ্চ উচ্চতা পরিমাপকারী একটি বিন্দু বেঞ্চমার্ক (BM) নামে পরিচিত। এই বেঞ্চমার্ক ফুট বা মিটারে দেখানো হয়। যেমন- BM 300 মিটার। এগুলি টোপো মানচিত্রে কালো রং দিয়ে লেখা হয়ে থাকে।
৫২.ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্র কাকে বলে?
উত্তর সংজ্ঞা: যে সমস্ত মানচিত্র (পৃথিবীর মহাদেশের মানচিত্র) বিশাল অঞ্চলকে ছোটো করে দেখানোর উদ্দেশ্যে অঙ্কন করা হয়, সেগুলিকে ক্ষুদ্র স্কেল মানচিত্র বলে। যেমন 1 সেমি মানচিত্র দূরত্ব = 250 কিমি বাস্তব দূরত্ব-এই স্কেলে অঙ্কিত মানচিত্র। এই মানচিত্র থেকে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না।
উদাহরণ: অ্যাটলাস মানচিত্র, দেয়াল মানচিত্র প্রভৃতি।
